ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ মে ২০২১

বাংলাদেশের ঘূর্নিঝড়

বাংলাদেশের ঘূর্নিঝড়

বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার  জনবহুল, নদী মাতৃক , নিম্নভূমি বিশিষ্ট একটা দুর্যোগ প্রবন দেশ। এর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন প্রায় ৭২৫ কিলোমিটার বেষ্টিত সাগর সীমা আছে। উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলে গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ার কারণে উষ্ণ মন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের একটা লীলাভূমিতে পরিনত হয়েছে দেশটি। প্রতি বছর কিছু ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে এবং প্রধানত: এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর হলো এই ঘূর্ণিঝড়ের মওসুম । এই সময় আবার বিপুল বৃষ্টিপাতের ফলে সারা দেশ বন্যায় প্লাবিত হয়।সে কারণে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা শুধুমাত্র দেশের জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতিই করে  না , বরং এটা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও  ব্যপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। উল্লেখ্যযোগ্যভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হওয়ার এটা একটা বড় কারণ। বিগত দুই শতকে বাংলাদেশ প্রায় ৭০টির মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়কে মোকাবেলা করেছে যা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনই শুধু কেড়ে নেয় নি একই সাথে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদেরও ক্ষতি  সাধন করেছে। গত অর্ধ শতকে বাংলাদেশ কতকগুলো অভূতপূর্ব ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করেছে যা গোটা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এগুলোর মধ্যে ১৯৭০ সালেই প্রায় দশ লক্ষ লোকের জীবন হানি ঘটে। ১৯৯১ সালে প্রায় দেড় লক্ষ লোকের জীবনহানি ঘটে। এ ছাড়াও ১৯৯৭, ১৯৯৮, ২০০৭,২০০৯, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে যেসব ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় তাতে হাজার হাজার মানুষের জীবন হানি সহ বিপুল সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়। ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পান প্রায় ২৬০কিমি/ঘন্টা গতিবেগে উপকূলে আঘাত হানে।এ ঘূর্ণিঝড় প্রধানত: ভারতের পশ্চিম বঙ্গ ও উড়িষ্যার উপকূলে আঘাত হানে , যার প্রভাব বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমের সাতক্ষীরা , খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় পড়ে। এর ফলে এই অঞ্চলে বিপুল পরিমান গাছ পালা ভেঙ্গে পড়ে এবং সমস্ত ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়।

বিশেষ করে ২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলা গোটা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ঝড়গুলো বিশ্ব উষ্ণায়ন ও এর ফল স্বরূপ  জলবায়ূ পরিবর্তনের  প্রতিক্রিয়ায় সংঘটিত হয় বলে বিশেষজ্ঞের মতামত। এগুলোর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ছিল বিপুল ও দীর্ঘমেয়াদী। সিডর ও আইলা নামক এই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসের ফলে যেসব নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল সেসব অঞ্চল ৩/৪ বছর ধরে প্লাবিত ছিল এবং পানি সাগরে ফিরে যায় নি। এর ফলে এসব অঞ্চল যে  লবনাক্ততার শিকার হয়েছিল যা আজও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় নি।   বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার কারনে  সাগরের উপরিতলের উচ্চতা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ হিসাবে গণ্য করা হয়। এ ঘটনা থেকে এটা দৃশ্যমান হয় যে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ূ পরিবর্তনের সবচাইতে প্রথম ও  বড় শিকার হলো বাংলাদেশ।


Share with :

Facebook Facebook